হুমায়ুন কবির, কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতা; কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরও ২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২ জনে। ৩২ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ জন।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২০) সন্ধায় কুষ্টিয়ার জেলা সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম আমাদের বাণী ডট কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
শনাক্তকৃত ৩ জনের মধ্যে ১ জনের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার কোলদিয়ার মরিচায়, ২য় জনের বাড়ি একই উপজেলার ফিলিপনগরে এবং অপরজন কুমরাখালী উপজেলার ছেউড়িয়ার চাপড়ায়। আক্রান্ত তিনজনই পুরুষ।
সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম আমাদের বাণী ডট কমকে জানান, কুষ্টিয়ায় আজ মঙ্গলবার দুইজন করোনা সনাক্ত হয়েছেন আর এক জনের করোনা আগেও পজিটিভ ছিল আজও আবার পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই মুহূর্ত মোট ৩২ জনের করোনা শনাক্ত করা হলো।
কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের প্রদত্ত তথ্য মতে, আজ মোট ৮৬ টি নমুনার কুষ্টিয়া ৭০ টি, চুয়াডাঙ্গা ১ ও মেহেরপুর ১৫টির মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ২ জন ও কুমারখালি উপজেলায় ১ জন মোট ৩ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে৷ বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ ১৯ শে মে,২০২০ এর প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে- মোট পাঠানো নমুনার সংখ্যা- ৪৫৩ টি মোট প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের সংখ্যা- ৩৮০ টি। নতুন প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষার ফলাফল- ২৪ টি এবং মোট পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ৬ জন। এদের মধ্যে নতুন ১ জন ও পুরাতন ৫ জন। আজ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত নতুন ব্যক্তি ৬৬ বছর বয়সী একজন পুরুষ।তার বাসা ছেউরিয়া এলাকায়। আক্রান্ত ব্যক্তি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
কুষ্টিয়ার উপজেলা ভিত্তিক রোগীর সংখ্যা দৌলতপুর ১২ জন, ভেড়ামারা ২, মিরপুর ৬, সদর উপজেলায় ৩ জন, কুমারখালী ৬ ও খোকসা উপজেলায় ১ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ১৮ জন । এদের মধ্যে পুরুষ রোগী ১৯ জন ও নারী ৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ (১৯ মে ২০২০) তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও নয় হাজার ৯১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আট হাজার ৪৪৯টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৯৩ হাজার ৬৪৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ২৫১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ১২১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ২১ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭০ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৪০৮ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ হাজার ৯৯৩ জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের চারজন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে একজন ও বরিশাল বিভাগে একজন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে ১১-২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১-৩০ দুইজন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১-৫০ পাঁচজন, ৫১-৬০ পাঁচজন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে চারজন এবং ৭১-৮০ বছরের মধ্যে দুইজন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩২৬ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৯৩ জনকে।