আমাদের বাণী ডেস্ক, ঢাকা; বিশ্বে দাবানলে মত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।আর এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশ্বের প্রতিটি দেশই নিজস্ব পন্থায় লকডাউন কিংবা জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে এই মহামারি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না পরে সে কারণে আগামী মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিত যদি বাড়তে থাকে তাহলে এই ছুটির মেয়াদ বাড়তে পারে।
দেশের এই পরিস্থিতি অর্থনীতির সচল চাকা অচল হবার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় শ্রমজীবী মানুষ। এদিকে বাজে পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন বেসরকারি নন এমপিও শিক্ষক এমনকি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও। নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা সরকারের কোন আর্থিক সুবিধা পান না অপরদিকে এমপিওভক্ত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা সরকারের কোষাগার থেকে সামান্য কিছু পেলেও তা অতি সামান্য যা দিয়ে কোন মত দিন যায়। এমন পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত ও নন এমপিও শিক্ষকদের ছয় মাসের রেশন প্রদানের আবেদন করেছেন বেসরকারি এক শিক্ষক নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর আকুল আবেদন জানিয়েছেন ছয় মাসের রেশন প্রদানের জন্য।
আমাদের বাণী ডট কম এর পাঠকদের জন্য শিক্ষক নেতার আবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হল;
বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা সমীপে-
বিষয়ঃ এমপিওভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের ছয় মাসের রেশন প্রদানের আবেদন।
মহাত্মন, যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন এই যে, আমরা সকলেই অবগত আছি যে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই আপনার দৃঢ় নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতায় সন্তোষজনক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছেন।
** ইতিমধ্যেই অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সঠিক সময়ে লক ডাউন ঘোষণা করেছেন।
** দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিগত ১৮ মার্চ-২০২০ থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
** দেশের গরীব অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে ছয় মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন।
** দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশ থেকে চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ সত্যি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সেই জন্য দেশের বেসরকারি শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।
মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
দেশের ক্রান্তিলগ্নে খেটে খাওয়া অসচ্ছল মানুষগুলো যেমন অসহায় হয়ে পড়েছে, তেমনি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা ও এর ব্যতিক্রম নয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্ধ দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা ও মারাত্মকভাবে দুর্ভোগে পরবেন। দেশের বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা নানাবিধ কারণে বৈষম্যের শিকার। ৮ম পে-কমিশনে সকল স্তরের চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা প্রায় দিগুন করা হয়েছে। এতে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন যেমন দিগুন হয়েছে, তেমনি বৈষম্যও দিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭০-৮০ শতাংশ শিক্ষক কর্মচারীরা মাসের বেতনের চেক সুদের উপর বিক্রি করে, পরিবার পরিজন পরিচালনা করে থাকেন। এছাড়াও এনজিও লোন ও ব্যাংক লোন নিয়ে ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে হয়েছে অনেককে। অভুক্ত উদরে থেকেও পোশাক ও মুখের হাসি ঘুচাবে না শিক্ষকরা, এটাই শিক্ষকদের শিষ্টাচার এটাই মহানুভবতা।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেটে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রণোদনা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। সামনে পবিত্র রমজান মাস সার্বিক পরিস্থিতি সুবিবেচনা করতঃ উক্ত বরাদ্দ থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তায় ৬ মাসের রেশন সুবিধা ঘোষণা করার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি।
বিনীত নিবেদক
মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম
সভাপতি
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম
উল্লেখ্য, দেশে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় অর্ধশত। মারা গেছে পাঁচ জন। তবে এই সংক্রমণ এর হাত থেকে কবে মুক্তি মিলবে তা কেউই বলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে দেশের খেটে খাওয়া মানুষদের মত দুর্দিন সময় কাটছে বেসরকারি শিক্ষকদের।
আমাদের বাণী ডট কম/২৯ মার্চ ২০২০/আরইএ
