নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা;  রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোয় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে এগুলোর জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলের জন্য দুই একর করে জমি অধিগ্রহণের কাজও চলছে। এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে শিক্ষার্থীদের রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলো নবীনগর ও আশুলিয়ার বাইপাইল, ধামরাই, বিলামালিয়া, জোয়ারসাহারা, সাতারকুল, কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদী, পূর্বাচল, সাইনবোর্ড ও চিটাগং রোডে হবে। এর আগে সরকার ঢাকায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি কলেজ স্থাপন করে। এগুলোয় প্রত্যাশিত সংখ্যার চেয়েও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের চাপও বাড়ছে। এ কারণে সরকার আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্প নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এরর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এসডিজি ৪-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানসম্মত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ স্থাপনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রকল্প পরিচালক ড. আমিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি চালু হলে প্রতিটিতে চার শিফটে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। এতে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণ ছাড়াও রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে।

তিনি আরও  বলেন, আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে যা বোঝায়, তারই মডেল হিসেবে ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য দুই একর করে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জ ও পূর্বাচলে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিদ্যালয় ভবন হবে ১০ তলা। বিদ্যালয় এলাকার ভেতরেই থাকবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বাসভবন। স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে পৃথক কমন রুম। থাকবে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি ও শহীদ মিনার। স্কুলের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট রাস্তা ও ফুলের বাগান। বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক, দুজন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ১০৮ জন সহকারী শিক্ষক থাকবেন। থাকবে আইসিটি, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানের পৃথক ল্যাবরেটরি। এগুলোর জন্য থাকবেন পৃথক ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুজন স্টুডেন্ট কাউন্সেলর এবং একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাও থাকবেন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে ১৬২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন।

দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এখন ৬৬২টি। এর মধ্যে পুরনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৪৮টি। বাকি ৩১৪টি ২০১০ সালের পর জাতীয়করণ হয়।

আমাদের বাণী ডট কম/০৬ মার্চ ২০২০/পিপিএম 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।