সরকারের ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সরল সুদে (সুদের ওপর সুদ নয়) সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণ পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। তবে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ঋণের আওতায় ছিলেন না। ২৬ ডিসেম্বর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ ঋণের আওতায় আনার চূড়ান্ত পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। এটি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রেও বঞ্চিত হলেন আকাশসম বৈষম্যের শিকার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা।
২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অর্থ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে এসব ঋণের সুদহারের ক্ষেত্রে বলা হয়, এ ঋণের জন্য ব্যাংক ১০ শতাংশ হারে সরল সুদ নেবে। অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ (সুদের ওপর সুদ) নেয়া হবে না। তবে ঋণগ্রহীতাকে দিতে হবে ৫ শতাংশ। বাকিটা সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে ভর্তুকি হিসেবে।
তবে নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন নীতিমালার আওতায় গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সরল সুদ, অর্থাৎ সুদের ওপর কোনো সুদ আদায় করা যাবে না। ঋণগ্রহীতা ব্যাংক রেটের সমহারে (প্রায় ৫ শতাংশ) সুদ পরিশোধ করবে। সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে।
এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা সরকারি বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সরকার তাদেরকে শতভাগ বেতন দেয়। যদিও বিভিন্ন ভাতাদির ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বাড়ি ভাড়া অত্যন্ত নগণ্য। তারা মাত্র ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পেয়ে আসছেন যা একেবারেই বেমানান। বাংলাদেশের কোথাও এ যৎসামান্য টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে এমনটা ভাবাও কঠিন। এ দুর্মূল্যের বাজারে সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার শিক্ষকদেরকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব তা বিবেচনার দাবি রাখে। এদিকটি বিবেচনায় গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮ এর মত একটি ইতিবাচক সিদ্বান্ত থেকে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদেরকে বঞ্চিতকরণ মোটেও শুভনীয় নয় বলে মনে করছি। এটি ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ বলেই মনে হচ্ছে।
সরকার প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮ এর আওতায় অন্তর্ভূক্ত করেনি। তাদের দাবি এবং ব্যাপক সমালোচনার পর এখন নতুন পরিপত্র জারি করতে যাচ্ছে। এ পরিপত্রকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যাবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালা, ২০১৯ নামে অভিহিত করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা বিদ্যমান বৈষম্যের শিকার হয়েও নতুন করে আবার বৈষম্যের শিকার হলো। আশা করছি সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদেরকেও গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালার অন্তর্ভূক্ত করে হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকদের মানসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবেন।
লেখকঃ প্রধান শিক্ষক
পীরকাশিমপুর আর এন উচ্চ বিদ্যালয়,
মুরাদনগর, কুমিল্লা।
