নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা থাকলে গতকাল মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ এপ্রলি পর্যন্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ছুটি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আসন্ন রমজানের ঈদের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছে। করোনা ভাইরাসে কার্যত অচল রয়েছে দেশ। বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবন-যাপন। মহামারি এ রোগ থেকে বাঁচতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
পিছিয়ে গেছে আজ ১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা। ফের কবে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়েও নেই স্পষ্ট ঘোষণা। ফলে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থীর।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। এবারো ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এই পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগে হরতাল-অবরোধেও একাধিকবার পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। কিন্তু স্থগিতের দিনই পরিবর্তিত তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসে গতিবিধি বোঝা না যাওয়ায় পরীক্ষার নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রথম দফায় গত ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা করলেও দ্বিতীয় দফায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ বাড়ানো হলেও ধারণা করা হচ্ছে এ ছুটি বাড়তে পারে ঈদ পর্যন্ত। ফলে ঈদের আগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া অনেকটা অনিশ্চিত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাব স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হবে। আবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই পরীক্ষা শুরু করা যাবে না। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কিছুদিন সময় দিতে হবে।
এদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার গ্রহণের প্রস্তুতি শেষ করেছে তারা। চলমান সংকট কাটলেই পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশ করবে তারা। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রথম সাময়িক ও সিটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মার্চ মাসের শেষের দিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সিটি পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।
আর জুন-জুলাইয়ে ষান্মাষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় এপ্রিলের শুরুতেই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সিটি এবং প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। অনেক স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের এসএমএস বা ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, বাসায় ষান্মাষিক পরীক্ষার পড়া শেষ করতে। ঈদের পর স্কুল খুললেই পরীক্ষা হবে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বলছে, পরীক্ষা সময়মতো না হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। একই সাথে কবে নতুন করে পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে তা নিয়েও তারা চিন্তিত রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক।
তিনি জানিয়েছেন, শেষ সময়ের প্রস্তুতি পরীক্ষার জন্য খুবই কাজে দেয়। তাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় না থেকে বাসায় বসে ভালো করে প্রস্তুতি নিলে পরীক্ষার্থীরা ভালো করবে। পরীক্ষার শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পরীক্ষা শুরু করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। করোনা পরিস্থিতির ওপর এইচএসসি পরীক্ষা নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। এদের মধ্যে নতুন করে আরও একজন মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। ভাইরাসটি থেকে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও একজন এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ২৬ জন।
আমাদের বাণী ডট কম/০১ এপ্রিল ২০২০/পিএ
