পশু-ডাক্তারের নিকট মানুষের যেমন চিকিৎসা আশা করা যায় না, তেমনি ভুক্তভোগীদের কথা না শুনে গ্রহনযোগ্য নীতিমালা পাওয়া যাবে না। একজন লোকের চোখের অসুখ হয়েছে। চোখের জ্বালাযন্ত্রণা সইতে না পেরে একদিন সে এক পশু -চিকিৎসকের নিকট গেল। তার অসুখের কথা সবিস্তারে বলল। চিকিৎসক সব শুনলেন। তারপর পশুদের চোখের ওষুধ দিলেন লোকটার চোখে। ভুল চিকিৎসায় বেচারা প্রায়-অন্ধ হয়ে গেল। রাগে-ক্ষোভে সে গেল কাজির কাছে বিচার চাইতে। কাজি সব শুনে চিকিৎসকে বেকসুর খালাস করে দিলেন।
আর লোকটিকে বললেন- দোষ আপনার। আপনি কোন বুদ্ধিতে পশু- চিকিৎসকের কাছে গেলেন? আপনি কি একজন পশু? পশু চিকিৎসক আপনাকে পশু ভেবে চিকিৎসা করেছে। এর মধ্যে কোনো অন্যায় নেই।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকাকের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য একটি কমিটি (স্কুল-কলেজ)গঠন করে দিয়েছেন। কমিটিতে নন এমপিও সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক সদস্য হিসেবে আছেন। ইতোমধ্যে সে কমিটি পর পর দুটি মিটিং করেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ততথ্যে পাওয়া যায় ফেডারেশনের প্রস্তাবিত নীতিমালা, সরকারের প্রতিনিধিগণ মানছেন না। না মানা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ যারা এসি রুমে বসে থাকেন, তারা কুঁড়ে ঘরের কথা যানবেন না। আবার যারা ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজ দেখবেন তারা তো অঁজো পাড়াগাঁয়ের পরিবার, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অবস্থা জানবেন না এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং নীতিমালার অবস্থার উপরের গল্পের পর্যায়ে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
উদাহরণস্বরুপ ২০১৮ সালের নীতিমালার কথা বলা যায়। ঐ নীতিমালা প্রকাশের পর থেকে শিক্ষকরা `ভুলে ভরা নীতিমালা` বলে বুক ফাটালেও তখন কেউ শোনার বা বোঝার চেষ্টা করেন নাই। কিন্তু ভুলে ভরা নীতিমালার আলোকে এমপিও প্রকাশের পরে যে অনিয়মগুলো সংবাদ মাধ্যমে জানা গেল তা মেনে নেওয়া কষ্টের। যদিও নীতি নির্ধারণী মহল ভুলের কথা শিকার করেছেন।
বর্তমানে নীতিমালা পর্যালোচনায় যে রকম শুপারিশের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে, তাতে পূর্বের মতোই অবস্থা হওয়ার আশংকা প্রকাশ করছেন শিক্ষকরা।
সুতরাং অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত ভেবেই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নতুবা অদুর ভবিষ্যতে অনেক শিক্ষকের চোখের পানি যেমন থামবে না। তেমনি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে তা রোধ করাও সহজ হবে না।
শিক্ষকরা মনে করেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ভুক্তভোগী শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছে, গ্রাম বংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তব অবস্থা জানলে, অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ের নীতিমালা জাতি পাবেন। তারা বিশ্বাস করেন তিনি সেটাই নির্দেশনা দিবেন।
লেখক: যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি।
