আমাদের বাণী ডেস্ক, ঢাকা; বিশ্বব্যাপী দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশেই যেন বিদ্যুতের গতিতে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। সাথে লাশের মিছিলও হচ্ছে বড়।আর এই মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১৮ জন বাংলাদেশিও। এর মধ্যে দেশে মারা গেছেন চার জন। অন্যরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে মারা গেছেন।
বাংলাদেশ:
দেশে করোনায় এ পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম মৃত্যু হয় ঢাকায়। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর) এক গত ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর দেয়।
এর পর ২১ মার্চ মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে আরেকজনের মৃত্যুর খবর জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত ২৩ মার্চ করোনা ভাইরাসে দেশে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানায় আইইডিসিআর। ওইদিন বিকেলে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা চতুর্থ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এসময় আক্রান্ত হয় ৩৯ জন।
যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চারজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ। এ নিয়ে নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাসে মোট আটজন বাংলাদেশি মারা গেলেন।
এলমহার্স্ট হসপিটালে ৬০ বছরের আবদুল বাতেন, ৭০ বছরের নূরজাহান বেগম এবং ৪২ বছরের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নারী মারা যান। প্লেইনভিউ হসপিটাল নর্থওয়েলে মারা গেছেন ৫৯ বছরের এটিএম সালাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৩ মার্চ মারা গেছেন ৩৮ বছরের আমিনা ইন্দ্রালিব তৃষা এবং ৬৯ বছরের মোহাম্মদ ইসমত। তার আগের আগের সপ্তাহে মারা গেছেন মোতাহের হোসেন ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজন বাংলাদেশি।
যুক্তরাজ্য: লন্ডনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবশেষ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে খসরু মিয়া নামে এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন।
এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে সর্বমোট ৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার একই হাসপাতালে হাজি জমসেদ আলী (৮০) নামের আরেকজন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেন। হাজি জমসেদ আলীও পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেলের সেটেলস স্ট্রিট এলাকায় বসবাস করতেন।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন ম্যানচেস্টারে বসবাসরত ৬০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি। তিনি পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে ইতালি থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন ব্রিটেনে।
দ্বিতীয় বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে। করোনাভাইরাসের সঙ্গে হাসপাতালে আটদিন যুদ্ধ করার পর পূর্ব লন্ডনের রয়েল লন্ডন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ৬৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। তৃতীয় বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন যুক্তরাজ্যে সফররত এক বাংলাদেশি। লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইতালি: এছাড়া ইতালির মিলানে গত ২০ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এক বাংলাদেশি। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, তার বয়স ৫০ হলেও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, প্রায় ৬০ বছর বয়সী ছিলেন ওই ব্যক্তি।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনো কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
আমাদের বাণী ডট কম/২৫ মার্চ ২০২০/টিএ
