নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ বছরের কম বয়সের শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে সঞ্চয় বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে হিসাবের (একাউন্ট) সংখ্যাও। ২০১৯ শেষে শিক্ষার্থীদের একাউন্টে ১ হাজার ৬২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা জমা হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিদায়ী বছর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৯০২টি। তবে সেপ্টেম্বরে এর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৯১৩টি। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে একাউন্ট বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, হিসাবগুলোতে মোট জমা হয়েছে ১ হাজার ৬২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৫৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ স্কুল ব্যাংক হিসাবসমূহের স্থিতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং তিন মাসের ব্যবধানে মোট জমার পরিমাণ বেড়েছে ৮৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশে কার্যরত ৫৯টি তফসিলি ব্যাংকের বর্তমানে ৫৫টি ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংখ্যা ও স্থিতির দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবদান বেশি। বেসরকারি ব্যাংকসমূহ মোট ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪০৭টি ব্যাংক হিসাব খুলেছে, যা মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৬৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এসব হিসাবের বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। যা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মোট স্থিতির ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুললেও মোট স্থিতির মাত্র ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ তারা সংগ্রহ করেছে।
স্কুল ব্যাংকিং এর মোট হিসাবের ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে এবং ৬২ দশমিক ৯৫ শতাংশ শহরাঞ্চলে খোলা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে স্থিতির পরিমাণ মোট স্থিতির যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ৭৪ দশমিক ১০শতাংশ। মোট হিসাবে ছাত্র ও ছাত্রীর অনুপাত প্রায় ৫৮:৪২।
স্কুল ব্যাংকিং এ আমানত সংগ্রতের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৮টি হিসাব খুলে শীর্ষে আছে ব্যাংকটি। যা মোট হিসাবের ২২ দশমিক ৪২ শতাংশ। মোট স্থিতির ভিত্তিতেও ব্যাংকটির অবস্থান সবার উপরে। তাদের সংগৃহীত আমানত প্রায় ৪৮৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। যা মোট স্থিতির ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশ।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদেরকে দেশের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা হলো স্কুল ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা ও আধুনিক ব্যাংকিং প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করার পাশাপাশি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে এ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।
আমাদের বাণী ডট কম/১০ মার্চ ২০২০/টিএ
