নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; দুই মাসেরও অধিক সময় পর আগামী ৩১ মে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন পুনরায় চালু হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন ও কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
পুনরায় লেনদেন চালু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ইতোমধ্যে ডিএসইর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩১ মে অফিসে যোগ দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (২৪ মে ২০২০) ডিএসইর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় মানবসম্পদ বিভাগ থেকে ডিএসইর সব বিভাগের প্রধানের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিএসইর চেয়ারম্যান আগামী ৩১ মে থেকে লেনদেন চালুর জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে আগামী ৩১ মে থেকে ডিএসইর নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। এ লক্ষ্যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ৩১ মে অফিসে যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানদের নিজ বিভাগের সবাইকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম গণমাধ্যমে জুন মাসের শুরুতে পু্ঁজিবাজারে লেনদেন চালুর কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে সরকারের সাধারণ ছুটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুঁজিবাজারও ২ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। যা শুরু হয়েছে গত ২৬ মার্চ। তবে চলমান মহামারিতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজার চালু রয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এই দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সমালোচনা উঠেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে সরকার সর্বপ্রথম গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এরপরে প্রথম দফায় ৭ দিন সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয় এবং দ্বিতীয় দফায় ৩ দিন সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করে।
এরপরে ১১ দিন বাড়িয়ে সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত, আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত এই ছুটি বর্ধিত করা হয়। যা ৫ম দফায় ১১ দিন বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৪ দিন সাধারন ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ধাপে ধাপে পুঁজিবাজারও বন্ধ ঘোষণা করে ডিএসই।
এদিকে আজ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাস মহামারি সহসা দূর হচ্ছে না। কিন্তু জীবন থেমে থাকবে না। যতদিন এর প্রতিষেধক আবিষ্কার না হচ্ছে, ততদিন করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে। করোনার কারণে লকডাউন বিশ্বের প্রায় সকল দেশই শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য আয়-রোজগারের পথ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের নয়ই। তিনি বলেন, দোকান-পাট ও ব্যবসা বন্ধ থাকায় মালিকদের আয় বন্ধ হয়েছে, কর্মচারীরাও বিপাকে পড়েছেন। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আমাদের বাণী ডট কম/২৪ মে ২০২০/ডিডিএ
