নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা’; করোনাভাইরাসে দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে করোনা মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৯ জন।
আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে ২০২০) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এতে বলা হয়, দেশে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। এদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুজন এবং ১১ থেকে ২০ বছর একজন। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন।
এর আগে দুপুর আড়াইটার নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৮৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ পাঁচ হাজার ৫১৩টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭০৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৪২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১৩০ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯১০ জন।
এছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ১০৪ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৭৭১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই হাজার ৩৩১ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই লাখ চার হাজার ৩১ জন।
বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। তবে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। পৃথিবীর ১২০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৬৫ হাজার জন।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। এদিকে ক্রমেই আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ৬ষ্ঠ দফা ছুটি বাড়িয়ে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সংক্রমণের মাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেলেও সরকার আজ থেকে মসজিদে নামাজ পড়া উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আগামী ১০ মে থেকে খোলা যাবে দোকান পাট এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে ১৭ মে থেকে চালু হচ্ছে গণপরিবহনও।
আমাদের বাণী ডট/০৭ মে ২০২০/পিবিএ
