ওয়াহিদ চৌধুরী;  শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নতি কল্পনাও করা যায় না। জাতীয় উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষাই জাতির ভবিষ্যৎ গঠন ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। করোনা পরবর্তী শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে উটতে শিক্ষক সংকট দুর করতে প্যানেল বাস্তবায়ন খুব ই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু বর্তমানে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। বাংলাদেশ প্রাইমারী এডুকেশন অ্যানুয়েল সেক্টর পারফর্মমেন্সের ২০১৯ এর তথ্য অনুযায়ী ১ জন শিক্ষক দ্বারা ৭৪৯ টি,২ জন শিক্ষক দ্বারা ১১২৪টি,
৩ জন শিক্ষক দ্বারা চলছে ৪০০৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় । এই সংকট দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও মিডিয়ার প্রকাশিত তথ্যমতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারেরও অধিক সহকারী শিক্ষকের শুন্যপদ রয়েছে। ৬৫ হাজার রিজার্ভ শিক্ষক নিয়োগ ,৬৭ হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৭০০০ হাজার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকে ২৬০০০ পদ শুন্য রয়েছে।

১৬জুন ২০১৬, দৈনিক শিক্ষার নিজস্ব প্রতিবেদকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ডি পি ই এর তথ্য মতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০জন শিক্ষক অবসরে যান। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্যারা শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান।মসজিদের ইমাম সাহেব কে দিয়েও চলছে পাঠদান।এই বিপুল সংখ্যক পদ শুন্য থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।তাই দ্রুত শুন্য পদ পূরণ করা না হলে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সংকটের মধ্যে পড়বে। দ্রুত শিক্ষক সংকট উত্তরণে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্যানেল পদ্ধতির প্রবর্তনের জন্য সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক।

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। সারাবিশ্ব আজ করোনা নামক মহামারিতে বিপর্যস্ত এবং তার ভয়াল থাবা পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার উপর। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দরকার মানসম্মত, যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক। তাঁদের মাধ্যমেই প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষতিকে পুষিয়ে নেয়া এবং শিক্ষার গতিকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ২৪ লাখ পরিক্ষাথীর মধ্যে ২.৩% হারে মাত্র ৫৫২৫৭ জন প্রাথী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। এখানে অবশ্যই সবাই মেধাবী এবং যোগ্যতা সম্পন্ন। কিন্তু শুন্য পদে নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ১৮১৪৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।বর্তমানে সারা দেশে যেহেতু লক্ষাধিকপদ খালি আছে এবং ভাইবাতে পাশ/ফেইল বলতে কিছু বলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ডিজি মহোদয় মাননীয় ফসিউল্লাহ স্যার মন্তব্য করেছেন সুতরাং
এই মহা শিক্ষক সংকটকালীন সময়ে প্যানেলে শিক্ষক নিয়োগ দেয়াই হবে সর্বোত্তম পন্থা। মুজিবশতবর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূরীকরণের মহা পদক্ষেপ হিসেবে প্যানেল বাস্তবায়ন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

লেখক: উপদেষ্টঃপ্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ – ২০১৮ প্যানেল বাস্তবায়ন কমিটি, সিলেট জেলা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।