ভাবনা’তে কবি’ পড়ি লিখা’ কবিতা’খানি তার

আইনুল হোসেন সানু

ভাবিনি তো’
কখনই আমি হয়ে বিচ্ছিন্ন ভাব
নিয়ে নিবিড় মনে কবি’ জীবন কে
ভেবেছি যত তার শুধু
লিখা পড়ে —

কত শত প্রহর কত
সহস্র রাত কেঁদেছি বসে শুধু একা
নিয়ে হাতে জেগে কবিতা’ র
বই খানি ভেবেছি উদাস মনে হয়ে বিহ্বল
লিখেছেন কি’ করে কবি ‘,
শত প্রশ্নের ঝড় কেবলই’ নিরবে
গহীন মনে’ র কোণে দিয়েছে উঁকি
শুধু’ বারেবার —–

ছোট গল্পে’ র
সেই’ যে’ অমিত যার সাথে
ছিলো প্রেম লাবণ্য’ র
মমো অন্তর জুড়ে, ছিলো নির্মম নিরজনে,
ছিলো দু’জনের মাঝে অদৃশ্য
কাঁটা এক কেটি, ওরফে
নাম কার কেতকী ….

কাটতে সাঁতার সেথা
গভীর দীঘি, হাতের নাগালে ছিলো
ঘটি ভরা জল সাথে তৃষ্ণা
সেও নিরবধি,
চাই’ লেই মন যখন তখন
দীঘির সে’ স্বচ্ছ জলে নেমে অমিত
খেয়ালী মনে হাত পা ছুড়ে
কেটেছে সাঁতার
ডুব অতলে …

ওষ্ঠাগতপ্রাণ যখন
শুষ্কময় কন্ঠ নালী নিয়ে উঠে তীরে’ তে
ছাড়াতে হাফ দেয় এলিয়ে
ক্লান্ত শরীর বুজাতে তৃষ্ণা’ ঢালে
ইচ্ছে মত ঐ’ ভরা’
ঘটি’ র জলে —

ছিলো
অনন্য তায় ঘেরা
ত্রি’ ভূজ প্রেমের এক কাহিনী’ সরল
ছিলো সেই রচনায়…
ছিলো দু’ ধারে দু’ জন, লাবন্য
সদা সে’ নিরব দীঘি মাঝে’ তে অমিত আর
ঘটি ভরা জল তৃষ্ণার যেন’ চঞ্চলা
চপলা অতি ছিলো কেতকী —

ছিলো
ঝাঁকড়া চুলের বহর
কি’ যে’ দেখতে বাহার’ বড় বড় চোখে’
চশমা পড়া মাথায় টুপি, আমি
দেখিনি কভু তারে এই দু’ চোখে’ শুনেছি
থাকতো সদা সে’ খেয়ালেতে ডুবে
অপলক চোখে’ তে চেয়ে, কন্ঠে ছিলো
সুরেলা ঢেউ সেতো পাগল পারা
জুড়ানো প্রাণ অমৃত ধারা ….

কত শত
সহস্র বার প্রবেশেছি সেথা
চিপিচুপি অতি একান্তে তাহা অনুভব
অন্তস্থঃতলের গভীরতায় নিয়ে মন
অনুভূতি তে সে’ ঐ’ দু’ চোখে’ চেয়ে’ শুধু
অপলক ভেবেছি থমকে, আহা
কেমন করে দেখেছিলো সে’ নিজের করে
ঐ’ দু’ চোখে’ গোটা বিশ্বাটারে —

দেখেছি সবই আমি
সে’ মোর অন্তঃ নয়ন ভরে নিরিড় করে
নয় ছুঁয়ে একটু তারে কভু
দেখেছি শরীর শুধু দূর হতে আঁকা ছবি’
পটে তার খেয়ালে তে, দৃষ্টিতে
ছিলো সে’ কি’ যাদুর
বিস্ময় অদম্য চেতনার জয় ছিলো
কন্ঠ ভরা কত গান শত
প্রতি’ কবি’ তায় …..

কি’ মনে কি’ ভেবে
কোন সে’ ক্ষণে নিয়েছিলো বুঝে সে’
কি’ কথার কোন সে’ মানে
কে’ জানে
ভাঙতে হবে আজি শত
পরাধীনতার জঞ্জির সৃঙ্খল বুঝি
চিরতরে একা আমাকেই
হবে হয়ত লিখেছিল দিয়ে হুঙ্কার দুখু
অমন করেই বজ্রকন্ঠে ঝঙ্কারেতে উঠে নেচে
ওরে কে’ আছিস
নিয়ে আয়তো জ্বেলে মোর
কলকে খানা….

আয় যত বন্দি শালা
ওরে আগুন জ্বালা, ফেল ভেঙে
ফেল ওপারে সব কারার ঐ
লৌহ কপাট …..

কত শত বার
দিনে ও রাতে আলো আঁধারিতে
ছবি দেখি আয়না’ তে,
ঘুরে ফিরে কত ভাবে দাঁড়িয়ে বসে
দেখি শুধু নিজে’ রে’….
কই লাগে নি তো’ মোটেও
কভু একবার জানি তার মত করে
বিস্মৃত হয়ে বিহ্বল আসে নি
কভু ঠোঁটের কোণে ফিকে এক চিলতে হাসি
সুকান্ত’ র মত করে ….

নিয়ে মুখে হাত
ভেবে দিনরাত উদাস হয়ে
নিমগ্ন ভাবুক চেহারায়, কই তেমন কি’
কভু লাগে আমাকে …?
কোন খেয়ালে তার
মনের কোণে হলো যে’ উদয়
হঠাৎ ভাবনাতে …
হলো উদিত তাৎক্ষণিক সে’
কেমন করে কে’ জানে বুভুক্ষু প্রাণে
দেখে পূর্ণিমার চাঁদ লাগে’ তার চোখে’ যেন’
সে’ এক ঝলসানো রুটি ….

পল্লী বধূ র
কষ্টেশিষ্টে কাটে যেথা জীবন
চলে ধুঁকে ধুঁকে শত বঞ্চনাতে কে’ না’ জানে’ দেখা অদেখার সচিত্রতার চিত্র সে’ তো
আজও হাজার গ্রামে নয় কাল্পনিক
একটু মোটেও
বিরাজমান যা’ আজও পারাগাঁয়ে
চিরাচরিত বাঁচে কত অবহেলে
গ্রাম আর প্রতি’ শহরে,

কাজের শেষে
নিয়ে ক্লান্ত শরীর আধ পেট খেয়ে
এখনও যারা নিত্য বাঁচে
মুখে নিয়ে হাসি জীর্ণ শরীর অতিসয়
অভুক্ততায় এখনও ….

অলস দুপুর মিলে দল বেঁধে
এক সাথে গল্পে কথার ফাঁকে ফাঁকে
মনের শত দুখের নিবিড় কাতরতায়
করে কারুকাজ নিমগ্ন মনে
চলে নরম হাতে আলতো ভরে মেতে
শত স্পর্শ মমতার …..

সুঁই য়ে পড়ানো
কত রং বে-রঙিন সুতোয় গড়ে তোলে
শৈল্পীকতা প্রতি’ টি ফোঁড়ে
সহস্র রমনী’ র যাদুর পরশ ছিলো আছে
মিশে যে’ তাতে, আঁটা সাঁটা প্রতি
নিঃশ্বাসের গভীর হতে
গভীর অতলে যেন’ ডুব সাঁতারে
ডুবে ভেসে ওঠা দীর্ঘস্বাসে
হৃদস্পন্দনে প্রতিটি মনের গহীনের
শত কষ্টের ছাপ ভুলে থাকার
কি’ যে’ প্রয়াশ সেই সেলাই’ র মাঝে
দুঃখ’ সুখে মিলে হাসি কান্নার
সকরুন সেই’ কারুকাজে ছিলো ভরা
ঐতিহ্যময় সে’ তো শুধু আমার
এই বাংলা’ তে, নকশী কাঁথার মাঠ আর
স্বজন বাদিয়ার ঘাট ছিলো সে
পল্লীকবি জসিমের ……

অজো পল্লীর
আকাঁ বাঁকা এক হাঁটু কাদা মাখা
ছিলো মেঠো পথ, সে’ কি’
পড়ে আজ চোখে …?
চলতে যে’ পথে ছিলো বারেবার
পিছলেখেয়ে পড়ার কত ভয়
সে’ নয় অহেতুক ….
সেই সে’ পথের দু’ ধার জুড়ে
সারি বাঁধা ছিলো তাল খেজুর আর
দেবদারু অশ্বত্থ গাছ….

তার ফাঁকে যেথা
গাছের ছায়ে ছিলো দূর’ বাঁকে
মাঠের ধাবে গরু চড়ানো গামছা কাঁধে
দেখেছি আরও সেথা’ গাছের ডালে
ছিলো বাধা গাছের ডালে বালক
রাখালের বিশ্রামাগার ….

লাতায় পাতায় জড়ানো
ছিলো মনের গভীর হতে কত গভীরে
আহ্ …
স্মৃতির অতলে ছিলো আছে
আরও কত কি’ সে’ কি’
আর আজ আছে ?
বড় ইচ্ছে করে জানতে
মনে হলে আজ গিয়ে দেখি, ভাবি
দিই এক ছুট যাই ছুটে সেথা, আছে কি’ তা
আজও সব তেমনি করে…?

বাউ লতা ভরা
খালের ধারে ছিলো ছোট বড়
বড়ই এর গাছ, আতা গাছের ডালে
টুনটুনি’ দের বাসা আর বাবলা বনে ছিলো
ঘুম জড়ানো নিঝুম অলস দুপুরে
ঘু ঘু ঘু করে মন কাড়া ঐ’ সে’ দোলো আর
জোড়া পাতি ঘুঘু পাখির ডাক …..

কেঁদে উঠে মন’
প্রভাতে কখনও বা ভাঙলে ঘুম
রাত দুপুরে, বলে যাই ছুটে চল ফিরে
না’ হয় একা আজ হোক’ শেষ
একটি বার …
কি’ করে বলো ভুলি
সে’ সব কথা জীবাশ্মে, মন
কেমন করে, ছেলে বেলায় পড়া
পাতা ছেড়া বাল্য বই’ য়ে, ঐ খানে তোর
দাদী’ র কবর ডালিম গাছের তলে
রোগে শোকে জরা
ছিলো ভরা যার সমস্ত শরীর
সাথে মন ….

নিত্য অভুক্ত অনাহারী দেখা
সেই কিশোরী মেয়ের করুন মুখ যার
পিলে ভরা পেট
এক এক করে যেতো গোনা আছে তার
বুকের ক’ খান হাড়
সে’ মেয়ে কেউ নয় আর ছিলো সে’ তো
পল্লী কবি’ র নিজ চোখে’ দেখে লিখা

বাস্তবে দেয়া জীবন্ত রূপ এনে
কবিতা’ য় আসমানী’ কে ?

মাঠ প্রান্তর
গ্রাম্য তা ছেড়ে বাড়িয়ে হাতে হাত
আঁকড়ে ধরা —
বানাতে ঘুড়ি পুড়িয়ে কত কাঠখর
সকাল দুপুর লাগো সন্ধ্যাতে
কোথায় গেছে হারিয়ে সবই যেন’ আজ
অতলে ঐ’ কালের গহ্বরে
মিলিয়ে গেছে জানি সব
মিশেছে শেষে যে’ পথ ঐ’ পথের সাথে
কোন অজানা’ তে কে’ জানে ….

বিলাসী জীবন খোঁজা
শহুরে সভ্যতার নামে ইট পাথরে গড়া
যত অট্টালিকার ভীড়ে,
ছেড়ে আসা গ্রামের সবিজতা রেখে
দূর অজানায় করি নিত্য যে’ বাস
মনের কোণে সবই রেখেছি জমা সেই
ফেলে আসা রঙিন শৈশব আর ছোট্ট গ্রামের সেই প্রকৃতির কাছে…

ছিলো কি’ যে’ নেশা
ঘুড়ি উড়ানোর লাটিম খেলা
হলে স্কুল শেষ নাওয়া খাওয়া ভুলে
দিনের বেলা …
দেখেছি মিলে সবে
জ্যোৎস্না রাতে মন ভুলানো
ছিলো তারাদের মেলা অপরূপ কত যে’
রূপের বাহার চাঁদে গ্রহণ লাগা —-

পারিনিতো আজও
ভুলতে তারে ….
কৈশর ছেড়ে যখন এসেছে যৌবন
দিলে উঁকি দ্বারে, নেশার ঘোরে
রঙিন চোখে’ এক বিকেলে
প্রথম দেখা সেই দীঘল কালোকেশি
নাম না’ জানা কিশোরী কে …..

কালের স্রোতে
কখন যেন’ হঠাৎ করে সে’ গেল
কোথা’ হারিয়ে কে’ জানে
পড়েনি’তো আজও কভু জীবনে
এই দু’চোখে….
লাগে’ নি তো মন ভালো পড়েনি বাঁধা
তাই কোরো মনে
আর কোনো দিন দেখিনি চেয়ে
রেখে চোখে’ চোখ’ অমন করে
ফের কারো চোখে’ তে ই ……
তাই ঠিক হয়ে’ ওঠেনি বলা
তেমনই করে, দেখে কালো ঘন চুল
মেঘের বহর ভেবে কভু ভুল
সেতো এ’ দু’ চোখে’ ….

পারি’ নি সে’ দিন
বলতে তারে হেসে মিষ্টি করে
তার চোখে’ তে চেয়ে
করুন স্বরে
জীবনানন্দের মত করে
গভীর কথা সহজ ভাষা’ য় গুছিয়ে
তেমন করে ….
চুল তার
কবে কার অন্ধকার
বিদিশার নেশা…..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।