“মুজিব মানে আর কিছু না মুজিব মানে মুক্তি; পিতার সাথে সন্তানরে না-লেখা প্রমে চুক্তি ” । মুজিব মানে বাংলাদেশ। মুজিব মানে স্বাধীনতা। মুজিব মানে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আর মাত্র কয়েকঘন্টা পরে আমরা ২০২০ সালে পদার্পন করব। শুরু হবে নতুন বছর। আমরা বর্তমান প্রজন্ম পালন করব বাঙ্গালী জাতির জনক, বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে আজ নেই। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বাধীন বাংলদেশে তার যোগ্য উত্তরসূরী,উন্নয়নের রুপকার, বিশ^নেত্রী, মানবতার মা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। আমরা সৌভাগ্যবান আজ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তার নেতৃত্বে আমরা পালন করব জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন জাতি আজ দেখতে পাচ্ছে। কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত, জ্বালানি ,তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও শিক্ষা খাত সহ সকল সেক্টরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা এক সময় কল্পনাতীত ছিল।
রেল যোগাযোগ, চার লেন রাস্তা, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেস সহ সকল বৃহৎ প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে। নিজস্ব স্যাটেলাইট আজ মহাকাশে। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলার। শিক্ষা ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর ১ লা জানুয়ারি প্রাথমিক,নি¤œ-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে। মুজিব বর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বইয়ের পাশাপাশি পোশাক কেনার জন্য তুলে দেওয়া হবে নগদ টাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অসচ্ছল,দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেই বে-সরকারি শিক্ষক মন্ডলীদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল এর অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক ঘোষণায় ২৭৩০ টি ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তকরনের জন্য তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এমপিওভুক্তি কার্যকর হলে তাদের অবর্ণনীয় কস্টের কিছুটা হয়ত লাঘব হবে। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে সহজ হবে। কিন্তু যারা কঠোর নীতিমালার কারণে এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত হলো তাদের কস্টটা কোন দিন লাঘব হবে ? শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা, এই মহৎ পেশাকে ভালোবেসে,শ্রদ্ধাকরে বিশ^বিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এই পেশায় নিযুক্ত থাকার পরও জীবনধারণের সামান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বিনা বেতনে বিলিয়ে চলেছে শিক্ষার আলো। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালো থাকার স্বপ্ন আজ ফিকে হয়ে গেছে। তাদের অবর্ণনীয় কস্ট, কস্টই রয়ে গেছে। অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিশ্ব নেত্রী, মানবতার মা, আপনি ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তিন বেলা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আপনার উদারতায় বিশে^র দরবারে বাংলাদেশ আজ প্রশংসিত হয়েছে। আপনি মানবতার মা উপাধীতে ভ’ষিত হয়েছেন । এটা আমাদের গর্ব এবং আমাদের অহংকাার। আপনার সম্মান পুরো বাংলাদেশের সম্মান। আপনার পিতা এবং আপনার হাত ধরেই বাংলাদেশের সকল অর্জন। আপনার পিতা আমাদের কে উপহার দিয়ে গেছেন স্বাধীন,সার্বভৌম বাংলাদেশ। আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আপনি আপনার পিতার মতই উদার। আলজরেয়িায় ১৯৭৩ অনুষ্ঠতি জোট- নরিপক্ষে সম্মলেনে কউিবার অবসিংবাদতি নতো ফদিলে কাস্ত্রোর সঙ্গে বঠৈক করছেলিনে আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু শখে মুজবিুর রহমান ।
বঙ্গবন্ধু শখে মুজবিুর রহমান সর্ম্পকে ফিদেল কাস্ত্রো বলছিলেন-“আমি হিমালয় দেখিনি তবে শেখ মুজিবকে দেখেছে।’। ব্যক্তিত্বে ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমতুল্য । আর এই ভাবেই আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।’
দেশের ৯৭% শিক্ষা প্রতিষ্ঠন বে-সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। সমাজের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে গড়ে উঠা এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী অবর্ণনীয় দুঃখ কস্ট নিয়ে জীবনযাপন করছে। বে-সরকারি শিক্ষক সমাজের সময়ের দাবী এমপিওভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান একসাথে জাতীয়করণ,বদলী ও অবশিষ্ট স্বীকৃতি প্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিকরণ।
সকল সমস্যার সমাধান হল, একযোগে সকল স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ। সকল স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান একসাথে জাতীয়করণ করলে সকল বৈষম্যের অবসান ঘটবে এটা হলফ করে বলা যায়। কিন্তুু বাংলাদেশে এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান ননএমপিও রয়ে গেছে। বছরের পর বছর শিক্ষা সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিনা বেতনে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সামান্য অনুদান তাদের ভাগ্যে জোটেনা।পরিবার পরিজন নিয়ে কি দূর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। উচ্চ শিক্ষার পাঠ শেষ করে যেখানে পরিবারের হাল ধরবে সেখানে উচ্চশিক্ষিত হয়ে তাদের বিনা বেতনে শ্রম দিতে হচ্ছে। পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। পরিবারের কাছে সব সময় হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সু-দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আপনি উন্নয়নের ইতিহাস রচনা করেছেন। ননএমপিও শিক্ষক সমাজ আশা করে মুজিব বর্ষে সকল স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তকরণ করে, সকল বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আপনার পিতার মত আপনিও ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবেন। আপনার পিতার মত আপনার নামটিও ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
লেখক, প্রভাষক,হিসাব বিজ্ঞান
লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
