চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মতো বর্তমানে সারা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে,যা আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজ, টেলিভিশন, ফেসবুকে ঢুকলে কোথাও-না-কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখতে পাই। যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে।
২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাংলাদেশের স্কুল,কলেজ,ভার্সিটির ছাত্র ছাত্রীরা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করেছিল। যার পরিপেক্ষিতে সড়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করেছিল। তারপরেও বাংলাদেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না।
সড়ক দুর্ঘটনা হওয়ার মৌলিক কারণ ও এর থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়:-
বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১! অদক্ষ ড্রাইভার
২! ত্রুটিপূর্ণ মোটরযান
৩! বিভিন্ন প্রকার রোড সিগনাল মেনে না চলা।
৪! রাস্তার উপরে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসা
৫! অসতর্কতার সাথে যাত্রী রাস্তা পারাপার হওয়া,
৬! অতিরিক্ত ওভার টেকিং করা ইত্যাদি।
১. অদক্ষ ড্রাইভার:- একটি মোটরযান চালানোর পূর্বশর্ত হলো মোটরযানের ড্রাইভার দক্ষ হওয়া। একজন ড্রাইভারকে অবশ্যই সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত হতে হবে এবং দীর্ঘদিনের মোটর চালানোর ব্যবহারিক দক্ষতা থাকতে হবে।
২. ত্রুটিপূর্ণ মোটরযান:- একটি মোটর যান চালানোর পূর্বশর্ত হলো মোটরযানের ইঞ্জিন , বডি, চেসিস ইত্যাদি মোটরযানের ম্যানুয়াল দেখে কত বছর পর্যন্ত চালানো সম্ভব তার উপর ভিত্তি করে যান চালানো এবং মোটরযান অকেজো হয়ে গেলে তা বাদ দিয়ে অথবা রিপেয়ারিং এর মাধ্যমে যান চালাতে হবে। অন্যথায় যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৩. বিভিন্ন প্রকার রোড সিগনাল মেনে না চলা:-রোড সিগনাল চার প্রকার. যথা-
১! সক্রিয় বা বিভিন্ন প্রকার আলোর সংকেত,
২! নিষ্ক্রিয় বা রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড এর সংকেত,
৩! ট্রাফিক পুলিশের হাত দ্বারা সংকেত
৪! মোটরযানের সিগন্যাল লাইট দ্বারা সংকেত ও ড্রাইভার এর হাত দ্বারা সংকেত।
একজন মটর চালক কে অবশ্যই উপরোক্ত চারটি সিগন্যাল মেনে চলে যান চালাতে হয়।
৪! রাস্তার উপরে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসা:- কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় রাস্তার ধারে এমনকি রাস্তার উপরেও বিভিন্ন প্রকার পণ্যের দোকান দিয়ে বসে এতে করে রাস্তার জায়গা কমে যায়। যার ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে অসুবিধা হয়।
৫! অসতর্কতার সাথে পথচারী পারাপার হওয়া:- অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ অসতর্কতার সাথে পথচারী রাস্তা পারাপার হওয়া। সাধারণত হাইওয়ে রোড গুলোতে মোটরযান অত্যধিক গতিতে চলাচল করে। আর এই হাইওয়ে রোডের উপর দিয়ে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, বাজার, মসজিদ ইত্যাদিতে যাওয়া-আসার জন্য প্রতিনিয়ত পথচারীকে রাস্তা পার হতে হয়। অধিকাংশ জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও পথচারীরা তা ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। যার ফলে দুর্ঘটনা আরো বৃদ্ধি পায়।
৬! অতিরিক্ত ওভারটেকিং করা:- প্রতিদিনই কোন না কোন মোটরযান চালক অন্য একটি মোটরযানের সাথে প্রতিযোগিতা করে ওভার টেকিং করে। এতে করে মোটরযানের গতি চালকের কন্ট্রোলের বাইরে চলে যায় ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এই সমস্যাগুলো যদি দূর করতে হলে ড্রাইভারকে বিভিন্ন প্রকার ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে , মোটরযান চলনায় দক্ষ হতে হবে, সড়কের পাশে অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে এবং পথচারীদের সতর্কতার সাথে রাস্তা পারাপার হতে হবে। এইজন্য পথচারীকে ফুট -ওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে।কারণ অধিকাংশ জায়গা ফুটওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের উপর দিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ যেমন- স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি মসজিদ,বাজার ইত্যাদি চলাচলের সুবিধার্থে আরো অধিক সংখ্যক ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন।
তাহলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার নামক মৃত্যুকূপ থেকে চালক এবং পথচারীরা বাঁচতে পারবে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।
