নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা; খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক রোগীর (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ। নিহত ঐ ব্যক্তির বাড়ি খুলনা মহানগরীর হেলাতলা এলাকায়। এ নিয়ে এক শিক্ষকসহ খুলনা এ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন। আর সারাদেশে গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত মারা গেছেন আরও তিন জন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যায় বলে সাংবাদিকদের খুমেক হাসপাতালের পরিচালক নিশ্চিত করেছেন।
ওই রোগী সম্পর্কে খুমেকের ভাইস-প্রিন্সিপ্যাল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজ তার ফেসবুক পেইজে একটি স্টাটাস দেন। তাতেও তিনি ওই রোগী করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ওই রোগী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন এবং এই একই আইসিইউতে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।
ডা. মেহেদী নেওয়াজ তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ওই রোগী মডার্ন হাসপাতালে থাইরয়েড অপারেশন করিয়েছিল। তাকে যে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, সেই আইসিইউতে করোনা আক্রান্ত এক রোগী ছিল। তিনি ওই রোগীর করোনা সংক্রমণ হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় ওই রোগীর সংস্পর্শে যেসব চিকিৎসক, নার্স গিয়েছিলেন তাদেরকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২০) রাত সোয়া নয়টার দিকে জ্বর, কাশি ও গলা ব্যাথায় আক্রান্ত রবিউল ইসলাম (৫৬) নামের এক প্রবাসীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত রবিউলের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায়। তিনি এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, মৃত রবিউল এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর থেকে জ্বর, কাশি ও গলায় ব্যাথায় ভুগছিলেন। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে রবিউলকে জরুরি বিভাগে মৃত অবস্থায় আনা হয়।
একই দিন রাতে খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের নিজ বাড়িতে জ্বর-ঠান্ডায় বিষ্ণুপদ বিশ্বাসনামের এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। বিষ্ণুপদ শিয়ালী গ্রামের মৃত পবন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ওই শিক্ষকের ভাই মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, গত ৮ মার্চ ভারত থেকে নিজ বাড়িতে আসেন বিষ্ণুপদ বিশ্বাস। তার বড় ধরনের কোনো রোগ ছিল না। আসার পর শুধু জ্বর-ঠান্ডা ছিল। গত রাতে হঠাৎ মারা যান তিনি।
আমাদের বাণী ডট কম এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, করোনার লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ ২০২০) রাত থেকে গতকাল বুধবার (২৬ মার্চ ২০২০) পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জ: জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুর পর মানিকগঞ্জে এক ব্যক্তিকে দাফনের পর একটি গ্রামকে লকডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই গ্রামে ছয়টি বাড়ির ২৬ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শিবচর (মাদারীপুর): ঢাকার আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিবচরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইতালিফেরত এক প্রবাসীর বাবা। ওই প্রবাসীর স্ত্রী, দুই সন্তান, শাশুড়িসহ পরিবারের আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): সর্দি-কাশি ও জ্বরে এক নারীর (৫৫) মৃত্যু হওয়ায় করোনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দীন বলেন, ওই নারী হার্টের রোগী ছিলেন। তার মায়ের ছিল শ্বাসকষ্ট। বৃদ্ধা মায়ের সেবা করতে গিয়েই সম্ভবত তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা কেউই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। এর পরও সন্দেহ থাকায় তার স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।
সিলেট: হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা সিলেটের এক বৃদ্ধ (৬৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে নিজ বাসায় তার মৃত্যু হয়। নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার ওই বাসিন্দা দেশে থাকলেও তার ছেলে সপ্তাহখানেক আগে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
রাজশাহী: করোনা ভাইরাস পরীক্ষার আগেই জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ৪৬ বছর বয়সী ওই নারী মারা যান।
এ ছাড়া কক্সবাজারে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা লকডাউন করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গতকাল সকাল থেকে লকডাউন করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর। রাজশাহী দুর্গাপুর, কুষ্টিয়ার খোকসা, খুলনা, সাতক্ষীরার কলারোয়া, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব মার্কেট ও দোকানপাট। কোনো প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয়দের বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন।
আমাদের বাণী ডট কম/২৬ মার্চ ২০২০/টিএ
