পঁচাত্তরের কলংক
কল্যাণী
পঁচাত্তরের ১৫-ই আগস্ট,বাঙালি জাতির জীবনে
বেদনা বিধুর, নৃশংসতম এক বিভীষিকাময় ক্ষণে।
রচিত হলো ইতিহাসের সেই কলংকজনক অধ্যায়,
হায়রে মূর্খ, নির্বোধ, বর্বর আর পাষণ্ড কারে কয়!
নয়তো কি?বাঙালি কি করে হলো এতটা দুর্ধর্ষ?
পাকিস্তানি হানাদারেরাও যেখানে করেনি সাহস,
এমন সাহসীকতার পুরুস্কার পাবার যোগ্য তবে
অকৃতজ্ঞ, বেঈমান আর বর্বর জাতি হিসেবে।
বিশ্ব ধরায় নাম রাখিল, করে দিলো প্রমাণ
এভাবেই দিতে হয় বুঝি, ভালোবাসার প্রতিদান!
“ভাইয়েরা আমার, বোনেরা আমার।”
ভাষণ মঞ্চের প্রিয় সম্বোধন ছিল তাঁর।
“আমার বাংলা, আমার বাঙালি,”
কথায় কথায় এ-ই ছিলো যাঁর বুলি।
যে হৃদয়ে ছিলো বাংলা আর বাঙালির জন্য
প্রগাঢ় ভালোবাসা ছাড়া, ছিলো না কিছু ভিন্ন।
সে হৃদয়খানি ঝাঁজরা হলো অন্য কিছুতে নয়-
বাঙালির হাতের বুলেটেই তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ হয়।
যে বাংলা আর বাঙালির মান বাঁচাতে
জীবনের অর্ধেকটাই কেটেছে জেলখানাতে।
সারাজীবন শোষিত আর নিপীড়িতের পক্ষে
স্বাধীনতা আর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে,
তিনি ছিলেন অবিচল, এক অভিন্ন সত্তা।
ভেংগে পড়েননি, মেনে নেননি কোনো ব্যর্থতা।
ছিলো না তেমন অস্ত্র-গোলা কিংবা মেশিনগান,
সাত কোটি জনতার বলেই হয়েছিলেন বলিয়ান।
হায়েনাদের হটিয়ে শেষে মুক্ত হলো দেশ।
স্বাধীন দেশে প্রিয় বাঙালির সাথে ছিলেন বেশ।
কিন্তু বাঙালিরুপি কিছু হায়েনা আর বেঈমান
বাংলার মাটিতেই ছিলো যাদের অবাধ বিচরণ।
স্বাধীনতা তারা মানেনি যেমন, মুজিবকেও নয়,
ছদ্দবেশে বাংলায় তারা পাকিস্তানি হয়েই রয়।
অতঃপর তারা মেতে ওঠে এক ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে,
বেঈমানেরা শপথ নেয়, মুজিব হত্যার মন্ত্রে
ইতিহাস বিরল এমন জঘন্যতম পরিকল্পনা-
বিশ্বের কোথাও কেউ শোনেনি এমন ঘটনা।
প্রস্তাব যদিও দিয়েছিল কেউ, গণভবনে থাকার,
অবহেলে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন আবার
দৃঢ় বিশ্বাস আর গর্বের সাথে বলেছিলেন সেদিন –
“বাংলার মানুষ আমাকে মারবে না কোনদিন।”
সমস্ত বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে, জয় হলো শত্রুর।
অবশেষে পনেরোই আগস্ট, ঊনিশ’শ পঁচাত্তর।
হায়েনার দল ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো জাপ্টে,
বাঙালি জাতির ললাটে কলংক দিলো লেপ্টে।
