নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা; বিশ্বব্যাপী দাবানলের মত ছড়িয়ে পরা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ১০৯৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ১১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩০ জনে। নতুন করে ২৪ ঘন্টায় আরও ১ জন মারা গেছেন, এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে। আর দেশে করোনায় মোট আক্রান্ত ৩৩০ জনের ১৮৫ জনই ঢাকার, এর বাইরে সর্বচ্চো সংখ্যা নারায়ণগঞ্জে।
আজ বৃহস্পতিবার (০ ৯ এপ্রিল ২০২০) দুপুর আড়াই টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক। এ সময় সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ এর প্রতিনিধি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাঃ সানিয়া তাহমিনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এর পরিচালক ডা. মরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
আইইডিসিআর এর পরিচালক ডা. মরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, মোট আক্রান্ত ৩৩০ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন । নতুন আক্রান্ত ১১২ জনের ৭০ পুরুষ ৪২ মহিলা। এদের দশ বছরের মধ্যে ৩ জন , ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২৫ জন , ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ এর মধ্যে ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ এর মধ্যে ২৩ জন এবং ৬০ এর ঊর্ধ্ব ১১ জন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত একজন পুরুষ তার বয়স ৬০ এর উপর এবং তিনি ঢাকার বাসিন্দা। নতুন আক্রান্ত ৩৩০ জনের মধ্যে রাজধানীর ঢাকার ৬২ জন এর বাইরে নারায়ণগঞ্জে ১৩ জন বাকিরা সারাদেশের জন।
গতকাল বুধবার (০৮ এপ্রিল ২০২০) আইইডিসিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল আক্রান্ত ৫৪ জনের ঢাকার ৩৯ জন এর বাইরে সারাদেশে ১৫ জন।।
এর আগে গতকাল বুধবার (০৮ এপ্রিল ২০২০) পরিসংখ্যানে দেশে করোনায় আক্রান্ত মোট ২১৮ জনের মধ্যে ঢাকার ১২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল। সে সংখ্যার সঙ্গে নতুন করে আজ বৃহস্পতিবার ৬২ যোগ হওয়ায় ঢাকায় মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন বেড সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) ২ হাজার বেড, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি মার্কেটে ১ হাজার ৪০০ বেড ও উত্তরার দিয়া বাড়িতে চারটি ভবনে ১ হাজার ২০০ বেডের আইসোলেশন ইউনিটসহ মোট ৫ হাজার ৬০০ বেডের আইসোলেশন ইউনিট যুক্ত হচ্ছে।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘চীনের অ্যাম্বাসেডর বাংলাদেশের একটা আয়োজনটা করেছেন। কীভাবে তারা চীনে মোকাবিলা করেছে সেই বিষয়টি তারা জানিয়েছে। আমরা সেখান থেকে কিছু অ্যাডভাইস গ্রহণ করেছি। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই আমরা কাজ করছি। তাদের সবচেয়ে বড় বিষয়টি বলেছে যে আমাদেরকে এখন ঘরে থাকতে হবে। ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন এবং আমাদেরকে বেশি বেশি করে পরীক্ষা করতে হবে। এটিই তাদের মূল ম্যাসেজ ছিল। অর্থাৎ ঘরে থাকলে বেশি সংক্রমিত হবেন না, নিজেও ভালো থাকবেন অপরকেও ভালো রাখবেন।’
বেশি বেশি টেস্ট করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টেস্ট যত বেশি বেশি করা যাবে তত বেশি আমরা রোগী শনাক্ত করবো এবং আইসোলেশনে নেব। তাহলে নতুন করে আর শনাক্ত হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এতে যুক্ত হন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, গতকাল টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ঘরে থাকতে হবে। ঘরে থাকলে নিজে ও পরিবারের সদস্যসহ সবাই ভাল থাকবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বেশি বেশি নমুনা পরীক্ষার কথা বলেছেন তারা।
আমাদের বাণী ডট কম/০৯ এপ্রিল ২০২০/এভিপি
